1. admin@moulvibazarnews.com : admin :
  2. : backup_ed3d19ee53606a71 :
  3. newsdesk@moulvibazarnews.com : newsdesk :
  4. bdoffice.bnus@gmail.com : newsup :
  5. subeditor@moulvibazarnews.com : sub editor :
October 16, 2021, 6:28 pm

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ছয় ট্রাম্প কার্ড

  • Update Time : Wednesday, October 13, 2021
  • 2 Time View

স্পোর্টস ডেস্কঃ আর মাত্র চার দিন পরই ওমানে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। এরপর ২৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের পর্দা উঠবে। অন্যান্য যে কোনো বারের চেয়ে এবারের বাংলাদেশ দল অনেক পরিপূর্ণ ও শক্তিশালী। টাইগারদের ক্রিকেট বোদ্ধারা বিশ্বকাপে ‘ডাক হর্স’ হিসেবেও দেখছেন।

আর বাংলাদেশের ‘ডার্ক হর্স’ হওয়ার পিছনে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কাজ করতে পারে ছয় টাইগার ক্রিকেটার। অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তিন তরুণ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং আফিফ হোসেন। যে কোনো সময় দলের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

সাকিব কেন ট্রাম্প কার্ড সে উদাহরণ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেই দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর মুশফিক কতটা বিধ্বংসী ব্যাট করতে পারে সেটা সব টাইগার সমর্থকদেরই জানা। একই তকমা টাইগার অধিনায়ক রিয়াদের ক্ষেত্রেও। আর তরুণদের মধ্যে মোস্তাফিজের কাটার স্লোয়ারে ভুগবে বিশ্বের বাঘাবাঘা ব্যাটসম্যানরাও। আর সাইফুদ্দিন যেন বাংলার অ্যান্ড্রে রাসেল। আফিফ হোসেন কতটা বিধ্বংসী ব্যাট করতে পারে তার প্রমাণ সে বেশ কয়েকবারই দিয়েছে। তাছাড়া উইকেট টু উইকেট বোলিংয়ে দক্ষ এই বোলার ব্যাটসম্যানদের জন্যও বিপজ্জনক।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ : টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে অন্যতম কাণ্ডারি। মুশফিকের মতো তিনিও দল বিপদে পড়লে মাথা ঠাণ্ডা রেখে বেশ ভালোভাবে খেলতে পারেন। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে নিয়মিত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে মোট ২২টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ব্যাট করেছেন ১৮টি ম্যাচে। এ ম্যাচগুলো খেলে তিনি রান করেছেন ১৯৪। অপরদিকে বল হাতে তিনি তুলে নিয়েছেন ৮টি উইকেট। মাহমুদউল্লাহ সাম্প্রতিক সময়ে যে পারফরম্যান্স করছেন এটি যদি বিশ্বকাপেও ধরে রাখতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের সাফল্য পাওয়া খুব কঠিন কিছু হবে না।

সাকিব আল হাসান : ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের আশা-ভরসার স্থল। গত দুই মাসে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাকিব বোলিংয়ে দারুণ ছন্দ দেখিয়েছেন। যদিও মিরপুরের মন্থর উইকেটে ব্যাটে আলো ছাড়তে পারেননি, তবুও ব্যাট করেছেন টি-টোয়েন্টির মেজাজে। আইপিএলের চলতি আসরেও সাকিব তার পারফরম্যান্স ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। তাছাড়া আইপিএল বিশ্বকাপ ভেন্যুতে হওয়ায় বাড়তি অভিজ্ঞতা সঞ্চার করছেন সাকিব। আইসিসির সর্বশেষ বড় ইভেন্ট ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০১৯-এ সাকিব ছিলেন অনন্য। সেই পারফরম্যান্স যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধরে রাখেন তো সাকিবের চেয়ে ভয়ংকর আর কে হতে পারে। সাকিব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলেছেন ২৪টি। এই ম্যাচগুলো খেলে তিনি ৩০টি উইকেট শিকার করেছেন। অপরদিকে রান করেছেন ৫৬৭।

মুশফিকুর রহিম : উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে তার ভক্তরা ডাকেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল হিসেবে। কারণ তার ব্যাটে বাংলাদেশ ভরসা করতে পারে। দল বিপদে পড়ার পর অসংখ্যবার তিনি বাঁচিয়েছেন। ২০১৯ সালে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দিল্লিতে হওয়া ম্যাচটিতে ঐতিহাসিক জয় পায়। সে ম্যাচটিতে তিনি ৪৩ বল খেলে ৬০ রান করেন। এর আগে ২০১৬ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে প্রায় জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের কপাল খারাপ ছিল। কারণ ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ মাত্র ১ রানে হেরে যায়। মুশফিকুর রহিম সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই সিরিজের নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। তবে আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে প্রায় সময়ই জ্বলে ওঠেন মুশফিক। ফলে এবারো তিনি ভালো কিছু করবেন বলে সবার প্রত্যাশা। মিস্টার ডিপেন্ডেবলখ্যাত মুশফিকুর রহিম টাইগারদের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন ২৫টি ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে তিনি ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ২০টি ম্যাচে। রান করেছেন ২৫৮। এক ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান ৪৭।

মোস্তাফিজুর রহমান : বোলিং বিভাগে বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় আশার স্থল পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। বলা চলে তিনি বাংলাদেশের সেরা বোলার। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের ধসিয়ে দেয়ার জন্য তার বিকল্প আর কে হতে পারে! সাকিবের মতো মোস্তাফিজও আইপিএলের চলতি আসরে খেলেছেন। তার দল রাজস্থান রয়্যালস অবশ্য প্লে অব নিশ্চিত করতে না পেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন। তবে আইপিএলে বোলিং ঝলক দেখিয়ে গেছেন বাংলার কাটার মাস্টার। আইপিএলে নিয়মিত উইকেট তুলে নেয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের রানের টুটি চেপে রাখতে তাকে ব্যবহার করে গেছেন রাজস্থানের অধিনায়ক। দেশসেরা এ টাইগার পেসার আইপিএলে ২০২১ মৌসুমে রাজস্থানের হয়ে ১৪টি ম্যাচ খেলে শিকার করেন ১৪ উইকেট। আইপিএলে ডেথ ওভারে রান আটকে রাখার দিক দিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। স্থগিত হওয়া আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছেন ফিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও হবে আরব আমিরাতের মাটিতে। ফলে ফিজ তার মরুভূমিতে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপে ভালো কিছু করবেন সে প্রত্যাশা টাইগার সমর্থকদের। তাছাড়া তার আসল অস্ত্র কাটার, স্লোয়ার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কার্যকরী। আইপিএলে খেলতে যাওয়ার আগে মোস্তাফিজ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলেন। বাংলাদেশের এ ২টি সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি হবে মোস্তাফিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে হওয়া সর্বশেষ চার-ছক্কার লড়াইয়ে খেলেন তিনি। সেবার ৩টি ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজ শিকার করেন ৯টি উইকেট। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২টি উইকেট, ভারতের বিপক্ষে ২টি উইকেট ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫টি উইকেট শিকার করেন। এখন মোস্তাফিজ যে ফর্মে আছেন। এটি যদি তিনি বিশ্বকাপেও ধরে রাখতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের জন্য তা হবে বিশাল ব্যাপার।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন : বাংলাদেশের জার্সি গায়ে টি-টোয়েন্টিতে সাইফুদ্দিনের অভিষেক ২০১৭ সালে। এখন পর্যন্ত তিনি ২৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে সাইফ ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ১৪ ইনিংসে। যেখানে ১৭.২০ গড়ে তার রান সংগ্রহ ১৭২। সাইফুদ্দিন হিটার ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত। তার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং ২৭ বলে অপরাজিত ৩৯ রান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ইনিংসের শেষ বলে দ্রুত রান তুলে নিতে বাংলাদেশের ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন সাইফ। তাছাড়া ইনিংসের শেষ বলগুলোতে ডাবল স্ট্রাইক রেটে বাংলাদেশ দলকে জেতাতে সক্ষম টাইগার এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার ইনসুইং গতির বল গেইলের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানদের কাবু করতে আদর্শ অস্ত্র। সাইফের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ৩৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ২৫ ম্যাচে তার ঝুড়িতে উইকেট সংখ্যা ২৬টি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাইফুদ্দিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় আছে।

আফিফ হোসেন : আফিফ কখন যে মাঠে ঝড়ের রূপ নিয়ে নেয় তা বিপক্ষ দলের জন্য বোঝা কঠিন। ব্যাট হাতে তিনি হতে পারেন বাংলাদেশের তরুপের তাপ। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে আফিফ ২৮টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। ১৮.৬৫ গড়ে ২৩ ইনিংসে তার রান সংগ্রহ ৩৭৩। তার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং ২৬ বলে ৫২ রান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০ স্টাইক রেটে তার ইনিংসটিই বলে দেয় টি-টোয়েন্টির আদর্শ ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন বাংলাদেশ স্কোয়াডে বিশ্বকাপে অন্যতম ট্রাম্প কার্ড। আফিফের সবচেয়ে বড় গুণ ভয়ডরহীন ভঙ্গিতে ব্যাটিং করা। ফলে দলের চাপের মুহূর্তে আফিফ বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকরী ব্যাটসম্যান। বোলিংয়েও কম যান না এই অলরাউন্ডার। ৭ উইকেটের শিকারি আফিফের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ৯ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট আফগানদের বিরুদ্ধে। উইকেট টু উইকেট বোলিংয়ে আফিফ ঘায়েল করতে পারেন বিশ্বের যে কোনো ব্যাটসম্যানকে। এবারের বিশ্বকাপ আসরটিই আফিফের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যাত্রা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
All Rights Reserved 2008-2021.
Theme Customized By Positiveit.us